ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নিয়মিত দেখা যেত অভিনেত্রী রাজন্যা মিত্রকে। হঠাৎ করেই শুটিং চলাকালীন রাহুলের মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। মানসিক ধাক্কা এতটাই প্রবল যে আপাতত কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজন্যা। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি জানালেও, এই সিদ্ধান্তের পেছনে জমে থাকা যন্ত্রণা ও প্রশ্নই যেন আরও বড় হয়ে সামনে এসেছে দর্শকমহলের কাছে।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রাজন্যা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কারও কাছে গিয়ে নিজের শোক প্রকাশ করতে পারেন না। কেন তিনি ঘটনাস্থলে ফিরে যাননি বা কেন তখনই মুখ খোলেননি, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের শোক প্রকাশের ধরন আলাদা। সেই মুহূর্তে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, ফলে কিছু বলতে পারেননি। তাঁর কথায়, “আমি পারিনি, তাই বলিনি।” একইসঙ্গে তিনি বারবার জোর দিয়েছেন, সঠিক তদন্ত হোক, কিন্তু তার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে কাদা ছোড়াছুড়ি করা উচিত নয়।
শুটিংয়ের দিন কী ঘটেছিল, সে নিয়েও বিস্তারিত জানান অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, দুপুর তিনটের মধ্যেই প্যাকআপ হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ শিল্পীকে হোটেলে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি নিজেও সহ-শিল্পীদের সঙ্গে গাড়িতে করে ফিরে আসছিলেন, মাঝপথেই রাহুলের মৃত্যুর খবর পান। তখন মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতেও পারেননি। তিনি কেন ফিরে যায়নি সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সেই সময় এতটা দূরে চলে এসেছিলেন যে ফিরে গিয়েও কিছু করা সম্ভব ছিল না।
ইন্ডাস্ট্রির একাংশের আচরণ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজন্যা। তিনি বলেন, অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় না জেনে নানা মন্তব্য করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এমনকি যাঁরা আগে রাহুলকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছিলেন, তাঁদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, “মানুষের মৃত্যু নিয়ে এইভাবে বিচার করা ঠিক নয়।” পাশাপাশি সহকর্মী লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও তিনি বলেন, প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপমান করা উচিত নয়।
আরও পড়ুনঃ “শ্যুটিং করতে গিয়েই তো এই ঘটনাটা ঘটেছিল…” ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর শুটিং অভিজ্ঞতা নিয়ে, মুখ খুললেন ‘ভোলে বাবা পার করেগা’র সিজন ট্রিয়ের অভিনেত্রী বর্ণিনী চক্রবর্তী!
রাজন্যা আরও জানান, ১১ বছর ধরে এই প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে কাজ করে তিনি সবসময় নিরাপত্তা ও যত্ন পেয়েছেন। তাই হঠাৎ করে সব দোষ একপক্ষের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয় বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, যদি কোথাও গাফিলতি থেকে থাকে, তা তদন্তে বেরিয়ে আসুক এবং যার দোষ, সে যেন দায় নেয়। তবে তার আগে অযথা অপমান বা ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার এমন মন্তব্যে অনেকেই তাকে স্বার্থপর মহিলা বলে দাবি করেছেন, এছাড়াও অনেকেই দাবি করেছেন তার গলায় রাহুল চলে যাওয়ার বেদনার থেকেও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ওপর যেসব দোষ আনা হচ্ছে সেগুলোতেই নাকি তিনি বেশি ভেঙ্গে পড়েছেন। সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি কাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধুই নাটক, আসলে কি লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন তিনি?






